প্রভাত সংবাদ ডেস্ক: গত তিন বছরে ২৪ জন মহিলাকে বিয়ে করে অবশেষে মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘী থানার পুলিশের হাতে ধরা পড়লেন এক যুবক।
বুধবার রাতে উত্তর ২৪ পরগনার দত্তপুকুর থেকে সাগরদিঘী থানার বিশেষ তদন্তকারী দল গিয়ে ওই যুবককে গ্রেপ্তার করে। বৃহস্পতিবার তাকে জঙ্গিপুর মহকুমা আদালতে টিআই প্যারেডের জন্য হাজির করা হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত ওই যুবকের নাম আশাবুল মোল্লা (২৭) । তার বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগর এলাকাতে। পুলিশ সূত্রের খবর, প্রায় এক বছর আগে সাগরদিঘী থানার বালিয়া গ্রামে এক নাবালিকার সাথে বিয়ে ঠিক হয় আশাবুল মোল্লার। কিন্তু বিয়ের ঠিক আগের দিন তিন ভরি সোনা এবং নগদ ১০ হাজার টাকা নিয়ে ওই নাবালিকার বাড়ি থেকে পালিয়ে যায় আশাবুল। এরপর ওই নাবালিকার পরিবার সাগরদিঘী থানাতে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। গত এক বছর ধরে সাগরদিঘী থানার অফিসাররা পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, ঝাড়খন্ড সহ একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে খুঁজে পায়নি আশাবুলকে। সম্প্রতি পুলিশ সূত্র মারফত খবর পায় বারাসাত-দত্তপুকুর এলাকাতে একটি মেয়েকে বিয়ে করে সেখানে শ্বশুরবাড়িতেই নতুন করে সংসার পেতেছেন আশাবুল। গতকাল রাতে সেখানে হানা দেয় সাগরদিঘী থানার অফিসাররা। গ্রেফতার করা হয় আশাবুলকে। এই মামলার তদন্তকারী এক অফিসার বলেন, আশাবুল বিভিন্ন বেসরকারি এজেন্সির হয়ে রাস্তা মেরামতের কাজ করত। এই কারণে তাকে বিভিন্ন জায়গায় যেতে হত। যেখানেই সে কাজের জন্য যেত সেখানে নিজের ভুয়ো পরিচয় দিয়ে এলাকার কোনও গরিব পরিবারের সঙ্গে ভাব জমিয়ে নিত। তারপর তাদের বাড়ির মেয়েকে বিয়ে করে কিছুদিন সেখানে থেকে সুযোগ বুঝে টাকা-পয়সা সোনাদানা হাতিয়ে চম্পট দিত। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি বীরভূম নলহাটি থানার লোহাপুরে একটি মেয়েকে বিয়ের প্রতিশ্রূতি দিয়ে তার বাড়ি থেকে চার লক্ষ টাকা নিয়ে চম্পট দিয়েছিল আশাবুল। পুলিশের এক কর্তা জানান, ভুয়ো পরিচয় দিয়ে বিয়ে করার জন্য একাধিক জাল ভোটার কার্ড এবং আধার কার্ড তৈরি করে রেখেছিল আশাবুল। পুলিশের ওই আধিকারিক জানান, জাল ডকুমেন্টস ব্যবহার করে সিম কার্ড তোলার জন্য মোবাইল ফোন টাওয়ার ‘লোকেশন’ ব্যবহার করে বারবার তার সন্ধানে বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে আমাদেরকে খালি হাতে ফিরে আসতে হয়েছিল। তবে যেখানেই আমরা গিয়েছি সেখানে গিয়ে জানতে পেরেছি নিজেকে জেসিবি ড্রাইভার হিসেবে এবং অনাথ হিসেবে পরিচয় দিত আশাবুল। পুলিশ সূত্রের খবর, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আশাবুল স্বীকার করেছে পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ,ঝাড়খন্ড এই তিন রাজ্যে তার ১৭ জন বউ রয়েছে। তবে পুলিশ ধৃতের কাছ থেকে যে সমস্ত নথি উদ্ধার করেছে তা দেখে পুলিশের সন্দেহ পশ্চিমবঙ্গ এবং আশেপাশের রাজ্যে তার মোট ২৪ জন বিবাহিত স্ত্রী রয়েছে। এই সমস্ত বিয়ে সে গত তিন বছরে করেছে বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। তবে তদন্ত এগোলে প্রকৃত বউ-এর সংখ্যা বাড়তে পারে বলে পুলিশের সন্দেহ। সাগরদিঘী থানার এক আধিকারিক বলেন, বৃহস্পতিবার আমরা ধৃত ব্যক্তিকে টি আই প্যারেডের জন্য জঙ্গিপুর আদালতে পেশ করছি। এই মামলার অভিযোগকারী আশাবুলকে কোর্টে চিহ্নিত করলে আগামীকাল তাকে পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানিয়ে ফের কোর্টে পেশ করা হবে।
#আ/কা