1. provatsangbad@gmail.com : প্রভাত সংবাদ : প্রভাত সংবাদ
  2. mdjoy.jnu@gmail.com : dainikjoybarta.online : Shah Zoy
রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ০৫:০৯ অপরাহ্ন

কুমিল্লা সিটি’র উপ-নির্বাচনে ৪ মেয়র প্রার্থী ছুটে বেড়াচ্ছেন বিরামহীন প্রচারণায়

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ মার্চ, ২০২৪
  • ৬৬ বার পড়া হয়েছে

নেকবর হোসেন, কুমিল্লা।। কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন (কুসিক) উপ-নির্বাচনে মেয়র পদে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বিরামহীন প্রচারণায় ছুটে বেড়াচ্ছেন ৪জন মেয়র প্রার্থী। সোমবার প্রচারণার ১১ তম দিনেও সকাল থেকেই নিজেদের জানান দিতে ও তারা নগরের উন্নয়নের স্বার্থে নিজেদের ভোট দেওয়ার জন্য সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ভোট চেয়ে বেড়াচ্ছেন প্রার্থীরা।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে উপনির্বাচন ৯ মার্চ। উপনির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন ৪ জন। তারা হলেন- টেবিল ঘড়ি প্রতীকের প্রার্থী বিএনপি নেতা সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাকু, বাস প্রতীকের প্রার্থী কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক,ডা. তাহসিন বাহার সূচনা, ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থী কুমিল্লা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি নিজাম উদ্দিন কায়সার ও হাতি প্রতীকের প্রার্থী কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা নূর-উর রহমান মাহমুদ তানিম।
প্রার্থীদের উৎসবমুখর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ প্রচারণায় ভোটারদের মনেও উৎবের আমেজ দেখা যাচ্ছে। এককথায়, উৎসবের এ নগরীতে পরিণত হয়েছে কুমিল্লা নগরী। গত ২৩ তারিখ প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর থেকেই নগর জুড়ে নির্বাচনী প্রচারসহ ভোটারদের কাছে টানতে সরব হয়ে প্রাণান্তকর চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকরা। এরই মধ্যে নগরীর পাড়া-মহল্লা রাস্তাঘাট, অলি-গলি প্রার্থীদের ছবিসংবলিত পোস্টার-ব্যানারে ছেয়ে গেছে। নগরীতে প্রার্থী ও তাদের অনুসারী নেতাকর্মীদের লিফলেট বিতরণ ও ও গণসংযোগ, উঠান বৈঠক, পথসভার পাশাপাশি চলছে মাইকিং ও ডিজিটাল প্রচারও।
সোমবার (৪ মার্চ) সকালে নগরীর ১৩ নং ওয়ার্ডের থীরা পুকুরপাড় ও পরে ২০ নং ওয়ার্ডের উনাইসার, রাজাপাড়া ও দিশাবন্দল, আদালত এলাকায় প্রচারনা করেন ডা. তাহসিন বাহার।নগরীর ২০ নং ওয়ার্ডে প্রচারণা কালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাস প্রতীকের প্রার্থী তাহসিন বাহার সূচনা এসব কথা বলেন।
ডা. তাহসিন বাহার সূচনা বলেন, কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগ একজন শিক্ষিত ড্রাইভারের হাতে উন্নয়নের বাস তুলে দিয়েছেন। আমি এ উন্নয়নের বাসের যাত্রী কুমিল্লাবাসীকে কখনো নিরাশ করব না। আমার শিক্ষা মেধা যোগ্যতা পুরোটাই কুমিল্লার মানুষের কল্যাণে ব্যায় করব। আমি একজন নারী,নির্বাচিত হলে মা-বোনদের সমস্যা গুরুত্ব দিয়ে শুনব। বাংলাদেশ যেখানে স্মার্ট দেশের দিকে এগুচ্ছে সেখানে আমাদেরকে এখনো জলাবদ্ধতা যানজট নিয়ে ভাবতে হচ্ছে। নির্বাচিত হলে একটা পরিকল্পিক সকলের বাসযোগ্য সুন্দর নগরী গড়ে তুলব। সততার সাথে কাজ করব। বাংলাদেশের সবছেয়ে সুন্দর নগরী হিসেবে গড়ে তুলব কুমিল্লা সিটিকে। এসময় তিনি আরও বলেন প্রচারণার শেষ সময় ভোটারদের মধ্যে অনেক ভালো আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। সবাই ভোট কেন্দ্রে যেতে চাচ্ছে। কুমিল্লায় সিটি নির্বাচনকে ঘিরে একটা উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। নির্বাচনে যারা অপরাজনীতি করে এবং যাদের অভিযোগের প্রবনতা বেশি তারা অভিযোগ নিয়েই ব্যস্ত থাকে। তারা শুধুই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শহরে আসে। তারা করোনার সময় মানুষের পাশে থাকে না। তারা কারো সুখে -দু:খে সংগ্রামে পাশে থাকে না, রাজপথেও থাকে না। আমার মনে হয় নির্বাচন শেষ হলে তারা আবার চলে যাবে, অভিযোগও বন্ধ হয়ে যাবে।
অপরদিকে সোমবার ৪ মার্চ সকালে নগরীর ১১ নং ওয়ার্ডের রাজাগঞ্জ দুধ বাজার হতে আলেখারচর ঔষধ মার্কেটে এলাকায় গণসংযোগ ও ০৯ নং ওয়ার্ডে,২৫ নং ওয়ার্ডে উঠান বৈঠক করেন।এ সময় সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কু অভিযোগ করেন, সোমবার বাদ আসর কুমিল্লা নগরীর ৯নং ওয়ার্ড বাগিচাগাঁও এলাকায় ঘড়ি প্রতীকের পক্ষে উঠান বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠক শুরুর পূর্বে মানুষজন যখন এখানে জড়ো হন তখনই পার্শ্ববর্তী একটি ভবনের ছাদ থেকে ককটেল নিক্ষেপ করে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়। এছাড়াও একজন যুবক বোরকা পড়ে বৈঠকে হামলার চেষ্টা করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে।
সাক্কু অভিযোগ করেন, বাগিচাগাঁওয়ে উঠান বৈঠকে হামলার কিছুক্ষণ পরে নগরীর রেইসকোর্স এলাকায় অবস্থিত তার মালিকানাধীন হোটেল রেডরুফ-ইন-এ হামলা চালানো হয়। এসময় হোটেলে ভাংচুরসহ হোটেলটির সুপারভাইজার কবির হোসেন, স্টাফ ফারুক, রুহুল আমিন ও নাসিরকে আহত করা হয়। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার দলীয় সমর্থক বাস প্রতীকের প্রার্থীর লোকজন এ হামলা চালিয়েছে। এছাড়া গত শুক্রবার থেকে প্রতিদিনই তার উঠান বৈঠকে হামলা ও কর্মীদের মারধর করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে সোমবার (৪ মার্চ) কুমিল্লা সিটি করপোরেশ1নের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের ঢুলিপাড়া,রাজাপাড়া, নোয়াপাড়া, নেউরাসহ আশপাশের এলাকায় গণসংযোগ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন এই প্রার্থী।
এ সময় মেয়র প্রার্থী নিজাম উদ্দিন কায়সার বলেছেন নিরাপদ সম্প্রীতির বাসযোগ্য নতুন কুমিল্লা আমার স্বপ্ন।চাঁদাবাজি আর দুর্নীতি কুমিল্লার উন্নয়নের প্রধান বাঁধা। আমি নিজে দুর্নীতিমুক্ত থাকবো,সিটি কর্পোরেশনকে দুর্নীতিমুক্ত রাখবো।
তিনি বলেন -কুমিল্লা সিটি করপোরেশন উপনির্বাচনের ভোটের পরিস্থিতি দেখছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। পর্যবেক্ষণ করে ভালো মনে হলে দল নির্বাচনে যেতে পারে। যেকারণে আমি প্রথম থেকে বলে আসছি এই নির্বাচন দেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই নির্বাচন দেশের তথা নির্বাচন কমিশনের ভাবমূর্তি রক্ষার নির্বাচন।
এ সময় তিনি আরও বলেন, আমরা যারা বিএনপি করি আমরা সাধারণ সময়েই হামলা মামলায় আছি।আমরা শুরু থেকেই মামলা হামলায় জর্জরিত সুতরাং এগুলোর ভয় দেখিয়ে কোন লাভ নেই। কুমিল্লার মানুষ ভোট দেবে ঘোড়ায়। কারণ মানুষ পরিবর্তন চায়। কেউ কেউ নিয়ম ভেঙে একপ্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা করছে। কিন্তু আমি বলবো এই প্রচারণা কোন কাজে আসবে না৷ লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে এই প্রার্থী বলেন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড আছে কিনা তা কুমিল্লার মানুষ দেখছে৷ লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকলে পার্লামেন্ট মেম্বার কিভাবে সভাসমাবেশ করে? নির্বাচন কমিশনের কথা আমরা শুনছি আশ্বাসও রাখছি। সবাইকে বলবো কেন্দ্রে আসেন। ভোট দেন। আপনার কাংখিত জয় নিশ্চিত হবেই।
হাতি প্রতীকের প্রার্থী কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা সদস্য নূর-উর রহমান মাহমুদ তানিম বিভিন্ন এলাকা গণসংযোগ ও উঠান বৈঠক করেন।
কুসিক তথ্যমতে, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের আয়তন প্রায় ৫৩ দশমিক ৮৪ বর্গ কিলোমিটার। এ সিটিতে ২৭টি ওয়ার্ড রয়েছে, যেখানে ১০ লক্ষাধিক মানুষের বসবাস। এর আগে এখানে কুমিল্লা পৌরসভা ও কুমিল্লা সদর দক্ষিণ পৌরসভা নামে দুটি পৌরসভা ছিল। ২০১১ সালের ১০ জুলাই স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এক অধ্যাদেশ জারি করে পৌরসভা দুটিকে একটি সিটি করপোরেশনের মর্যাদা দেয়। সিটি করপো করপোরেশনের ২৭টি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ১০৫টি ভোটকেন্দ্রের ৬৪০টি কক্ষে ভোট নেওয়া হবে। ইভিএমের মাধ্যমে ৯ মার্চ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
#

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন