1. provatsangbad@gmail.com : প্রভাত সংবাদ : প্রভাত সংবাদ
  2. mdjoy.jnu@gmail.com : dainikjoybarta.online : Shah Zoy
শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ০৫:৩৮ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
কুমিল্লায় ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড এর অবহিতকরণ অনুষ্ঠানে মৃতের পরিবারের মাঝে দের কোটি টাকার চেক বিতরণ এবারের নির্বাচন আনন্দমূখর হবে – মোবাশ্বের আলম ভূইয়া ভ্রাতৃত্ব বন্ধনের প্রত্যয়ে দৈনিক আজকের জীবন পত্রিকার আয়োজনে ইফতার মাহফিল কুমিল্লা মহানগরীর শ্যুটার রাজিব গ্রেফতার মাহে রমজান সংযম, ত্যাগ, ধৈর্য্য ও শৃঙ্খলার শিক্ষা দেয়: সফিকুর রহমান কুমিল্লার বরুড়া প্রেসক্লাবের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত গোমতী নদীতে মাটি কাটার ব্যাপারে কোনো প্রকার ছাড় দেয়া হবে না- জেলা প্রশাসক কুমিল্লা সংযম সাধনার মাসে বাজারে ভোগান্তি কেন? দেশে গণতন্ত্র উত্তোরণে বড় বাধা মব জাস্টিস বন্ধ চায় ইসলামী ফ্রন্ট  কুমিল্লায় অবৈধ ইটভাটা অপসারনের দাবীতে প্রতিবাদ সমাবেশ

কুমিল্লায় বিপৎসীমার ১০৩ সেঃমিঃ ওপরে গোমতী নদীর পানি, পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় ১০ লক্ষাধিক মানুষ

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৪
  • ১১২ বার পড়া হয়েছে

শিশির সমরাট ।। ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের পাহাড়ি পানি হু হু করে আসছে বাংলাদেশে। পাশাপাশি টানা বৃষ্টির ফলে কুমিল্লার গোমতী নদীর পানি বেড়েই চলেছে। এতে প্রতিনিয়ত প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। বিভিন্ন উপজেলার প্রায় ১০ লক্ষাধিক মানুষ এরই মধ্যে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। নদীর চর তীরবর্তী শত শত মাছের ঘের, পুকুর, দিঘি, আউশ ধান, আমনের বীজতলা, শাকসবজিসহ নিম্নাঞ্চলের ফসলাদি তলিয়ে গেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিপৎসীমার ১০৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে গোমতীর পানি। এর আগে সকাল ৭টায় জানানো হয়েছিলো- বিপৎসীমার ৭০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

গোমতী নদীটি খরস্রোতা হওয়াতে এর তীব্রতাও অনেক বেশি। স্রোতের তোরে যেকোনো সময় গোমতীর শহর রক্ষা বাঁধ ধসে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে বিভিন্ন স্থান দিয়ে চুইয়ে চুইয়ে পানি ঢুকে পড়েছে লোকালয়ে।

কুমিল্লা মহানগর সংলগ্ন বাঁধ ধসে পড়লে পুরো নগরীর অবস্থা হবে ভয়াবহ। বর্তমানে টানা বৃষ্টির কারণে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় এতিমধ্যেই সৃষ্টি হয়েছে এর ভয়াবহ জলাবদ্ধতা। বাঁধ ভাঙার ভয়ে নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন গোমতীর উভয় তীরের বাসিন্দারা।

কুমিল্লা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী খান মোহাম্মদ ওয়ালিউজ্জামান বলেন, বাঁধ রক্ষায় সেনাবাহিনী, জেলা প্রশাসন, পাউবো, উপজেলা প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট এলাকার পুলিশ, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা  কাজ করছেন।

বাঁধের বেশ কিছু ঝুঁকিপূর্ণ অংশ দিয়ে গত বুধবার রাত থেকে চুইয়ে চুইয়ে লোকালয়ে পানি ঢুকছে। যেখানেই আমরা খবর পাচ্ছি স্থানীয় জনগণের সহায়তায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছি।

এছাড়া এ জেলার বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা দিয়ে প্রবাহিত খাল দিয়ে পাহাড়ি পানি প্রবেশ কারায়
কুমিল্লার বিভিন্ন উপজেলার প্রায় ১০ লক্ষাধিক মানুষ এরই মধ্যে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তলিয়ে গেছে শত শত মাছের ঘের, পুকুর, দিঘি, আউশ ধান ও আমনের বীজতলা। নদীর চর তীরবর্তী শাকসবজিসহ নিম্নাঞ্চলের ফসলাদি।

কুমিল্লার দক্ষিণাঞ্চলের উপজেলা নাঙ্গলকোট, মনোহরগঞ্জ ও চৌদ্দগ্রামের অধিকাংশ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। কুমিল্লা আদর্শ সদর, লাকসাম, বুড়িচং, বরুড়া, দেবীদ্বার, মুরাদনগর ও দাউদকান্দির নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় নিদারুণ কষ্টের মধ্যে পড়েছেন ওইসব এলাকার মানুষ।

নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুরাইয়া আক্তার লাকী জানান, এ উপজেলার প্রায় শতভাগ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। আমরা দুর্গতদের তালিকা করার চেষ্টা করছি। আশ্রয়কেন্দ্রগুলো চালু করা হয়েছে। বন্যাদুর্গতদের ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

চৌদ্দগ্রাম উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রহমত উল্লাহ বলেন, আকস্মিক এমন বড় বন্যায় মানুষ দিশাহারা হয়ে পড়েছে। এলাকাগুলো থেকে বিচ্ছিন্নভাবে খবর পাচ্ছি। অধিকাংশ ইউপি চেয়ারম্যানরা কাজে যোগ না দেওয়ায় ইউপি সচিবদের থেকে তথ্য নিচ্ছি। তথ্য পেলে ত্রাণসহ অন্যান্য সহায়তা শুরু করব। লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রোমেন শর্মা বলেন, গোমতী নদীর সদর অংশের পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। প্রতিনিয়ত পানি বাড়ছে। উপজেলার পাঁচথুবি ও আমড়াতলী ইউনিয়নের বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বলা হয়েছে। আমরা মাঠে রয়েছি।

বুড়িচং উপজেলার কামারখারা এলাকায় গোমতী বাঁধের নিচ দিয়ে চুইয়ে চুইয়ে পানি প্রবেশ করায় এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। স্থানীয়রা পানি বন্ধের আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই ফায়ার সার্ভিসের লোকজন ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা করছে।

কুমিল্লা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবেদ আলী জানান, জেলায় বুধবার পর্যন্ত ১৪টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বৃহস্পতিবার আরো কয়েকটি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হবে। বন্যাদুর্গতদের চাল ও শুকনো খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে।
#

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন