প্রভাত সংবাদ ডেস্ক : রাতের বেলা জরুরি সেবা ৯১১-এ একটি ফোন পায় যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া পুলিশ। কথোপকথন শুরুর আগেই কলটি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ফিরতি কল করা হলেও ওপাশ থেকে কোনো সাড়া আসেনি। পরে দেখা যায়, ফোনটি এসেছিল সো রবেলসের চিড়িয়াখানা থেকে।
পুলিশ ধারণা হয়, হয়ত কোনো বিপজ্জনক পরিস্থিতির উদ্ভব হওয়ায় চিড়িয়াখানা থেকে ফোন এসেছিল। তাই কালবিলম্ব না করেই ঘটনাস্থলে ছুটে যায় তারা। কিন্তু সেখানে গিয়ে তেমন কিছুই পুলিশের চোখে পড়েনি। এমনকি চিড়িয়াখানায় কর্মরত কেউও ফোন করেনি।
পরে বোঝা যায়, কেউ একজন পুলিশের সঙ্গে ঠাট্টা করতেই এ জিনিসটি করেছে। কিন্তু তার চেয়েও চমকপ্রদ বিষয়টি ধরা পড়ে, যখন কলদাতার পরিচয় পাওয়া যায়। আর কেউ নয়, কাজটি করেছে চিড়িয়াখানায় থাকা একটি ক্যাপুচিন বানর!
সংবাদমাধ্যম ডেইলি স্টার ইউকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্যাপুচিন বানরটির নাম রাউট। চিড়িয়াখানার গলফ কোর্টে পড়ে থাকা একটি অব্যবহৃত সেলফোন তুলে নিয়েই বানরটি মূলত জরুরি সেবা ৯১১-এ কল করেছিল।
চিড়িয়াখানার কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, চিড়িয়াখানার ৪০ একর জমির মধ্যে গলফ কোর্টে তেমন একটা মানুষ যায় না। বরং বানরেরাই সেখানে মনের আনন্দে ঘুরে বেড়ায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ঘটনার কথা উল্লেখ করে সান লুইস ওবিস্পো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় থেকে বলা হয়, “চিড়িয়াখানায় পৌঁছেও যখন সন্দেহজনক কিছু চোখে পড়ল না, তখন আমরা ভাবলাম আমাদের কী এভাবে বানর নাচ নাচাতে কেউ ফোন করেছিল? পরবর্তীতে পুরো বিষয়টি ধীরে ধীরে পরিষ্কার হয়।”
ফেসবুক পোস্টে আরো বলা হয়, “আমাদের বলা হয়েছে ক্যাপুচিন বানররা খুব তাড়াতাড়ি কোনো বিষয় বুঝে ফেলতে সক্ষম এবং সহজে যেকোনো কিছুর দখল নিতে পারে। এই বানররা ফোন পাওয়ার পর তারা শুধু বোতাম চাপতে শুরু করে। দুর্ভাগ্যক্রমে বোতাম চাপতে চাপতে সে জরুরি সেবা ৯১১-এ ফোন দিয়ে বসে।”
পুলিশকে ফোন দেওয়া ক্যাপুচিন বানরটির ছবি দেখিয়ে ওই পোস্টে বলা হয়, “পুরো বিষয়টিতে রাউটও বেশ লজ্জিত। কিন্তু তাকে দোষারোপ করা সম্ভব নয়। কারণ দিনশেষে তারা যা দেখে সেটাই অনুকরণ করে।”
#ডে/বা/